দীর্ঘদিন পর সেন্টমার্টিনে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

মানবজমিন: পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও রাখাইনে সহিংসতা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জেরে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। প্রায় চার শতাধিক পর্যটক নিয়ে সোমবার সকাল ১০ টায় দমদমিয়া জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ রওয়ানা করেছে। এদিকে প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ঢল নামে। কিন্তু চলতি বছর মিয়ানমারে সহিংসতা শুরু হওয়ায় নিরাপত্তা জনিত কারণে কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি। কারণ হিসাবে জানা গেছে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে জাহাজ গুলোতে এক জায়গায় নাব্যতা সংকটের কারণে মিয়ানমার জলসীমা দিয়ে চলাচল করতে হয়।
সর্বশেষ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছেন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের অভিজাত জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ টেকনাফের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বৈরী আবহাওয়া ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় পর্যটক মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এই রুটে পর্যটকবাহী চলাচলে অনুমতি দিয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয়। নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনও অনুমতি দিয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা রইল না।
তিনি আরো জানান, টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট হয়ে নিয়মিত পথেই জাহাজগুলো চলাচল করবে। দীর্ঘদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল-মোটেল কর্মচারী অভাবে দিনাতিপাত করছিল। অবশেষে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের সংবাদ পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন সেন্টমার্টিনদ্বীপের বাসিন্দারা। এদিকে দীর্ঘদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিন ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবুও অবশেষে জাহাজ চলাচল করায় তাদের মধ্যে খুশির আমেজ বইছে। এ রুটে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে ৬ থেকে ৭ টি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করে থাকে। এবং লাখ লাখ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমন করেন। আজ সোমবার একটি জাহাজ ছেড়ে গেলেও পর্যায়ক্রমে আরও জাহাজ যোগ হবে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ জানান, জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ায় সেন্টমার্টিনবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কেননা সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটন নির্ভর।
Share on Google Plus

About Nezam Kutubi

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment